শীতকালে মধু খাওয়ার উপকারিতা

Blog Cover Photo

শীতকাল সকলের কাছে পছন্দের এবং এই মৌসুমটা পুরো উপভোগ করতে চান। তবে আবহাওয়ার পরিবর্তনের সাথে শরীরের খাপ খাওয়াতে বেশ কিছুটা সময় লাগে। এমন অনেকেই রয়েছেন, যারা শীত জনিত নানা অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করে বাজে সময় কাটাচ্ছেন। প্রায় সবাই কমবেশি হাঁচি, কাশি, সঙ্গে মাথা যন্ত্রণা, চোখ-নাক দিয়ে পানি পড়া এবং জ্বর ইত্যাদি রোগে ভোগেন। এমনকি যাদের শ্বাসকষ্ট ও হাঁপানির রোগ রয়েছে তার প্রকোপের যন্ত্রণায় তাদের রাতে ঘুমাতেও কষ্ট হয়। এছাড়াও শীত সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে ত্বকের। এসময় ত্বক শুষ্ক হয়ে যায় এবং অতিরিক্ত ধুলোবালিতে চুল রুক্ষ হয়ে যায় ।

তবে প্রতিদিন কিছুটা মধু খেলে তা আপনার স্বাস্থ্যের জন্য বিস্ময়কর পরিবর্তন বয়ে আনতে পারে। তাই মধু হতে পারে এই শীতের মৌসুমে আপনার বিভিন্ন সমস্যার সহজ সমাধান। কারন মধুতে এমন কিছু উপাদান আছে যেগুলো শীতকালে শরীর ভালো রাখতে সাহায্য করে।

সর্বোপরি, মধু মানুষের জন্য আল্লাহ পাকের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নেয়ামত। আমাদের নবী হজরত মোহাম্মাদ (সাঃ) মধু খেতে পছন্দ করতেন এবং বিভিন্ন রোগের উপশমের জন্য মধু খেতে উপদেশ দিতেন। এছাড়া প্রাচীন গ্রিক ও মিসরীয়রাও ওষুধ হিসেবে মধু খেত এবং ভারতের আয়ুর্বেদ ও চীনের প্রাচীন চিকিৎসা শাস্ত্রে মধুর ব্যবহার দেখা যায়।

🔶 শীতকালে মধুর কিছু ব্যবহার:


👉 সর্দি-কাশিতেঃ কুসুম গরম পানিতে অথবা চায়ের সাথে মধু মিশিয়ে খেলে সর্দি-কাশির প্রকোপ কমবে এবং গলার স্বর ভাঙ্গা দূর হবে। আর যারা অনেকদিন ধরে খুসখুসে কাশির সমস্যায় ভুগছেন, তারা প্রতিদিন এক চামচ আদার রস অথবা তুলসীপাতার রসের সঙ্গে অথবা দারুচিনির সাথে এক চামচ মধু মিশিয়ে খেলে দ্রুত আরোগ্য হবেন। মধু ঘন বলে গলা খুসখুস, গলা ফোলা ও গলা ব্যথায় আরামদায়ক একটি প্রলেপের মতো কাজ করে। 

👉 শরীরের উষ্ণতাঃ শীতকালে শরীরের আভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা ধরে রাখতে সাহায্য করে মধু। নিয়মিত মধু সেবনে শরীরের উষ্ণতা বাড়ায় এবং দেহে তাপ ও শক্তি জুগিয়ে উষ্ণতা বাড়ায় মধু।

👉 পোড়া ও কাটাছেড়াঃ শীতে পোড়া ও কাটাছেড়া সহজে ভাল হয় না। মধুতে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান থাকার ফলে ক্ষত সারাতে সাহায্য করে। কাটাছেঁড়া ও পোড়া স্থানে মধুর একটি পাতলা প্রলেপ দিলে তা ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি প্রতিরোধ করে। এভাবে মধু ক্ষত সারাতে সাহায্য করবে এবং ব্যথা কমবে ও দ্রুত নিরাময় হবে।

👉 হজম সমস্যাঃ শীতে পিঠা-পায়েশের সঙ্গে নানা খাবারের স্বাদ নিতে গিয়ে মানুষের খাওয়ার পরিমাণ বেড়ে যায় । তখন অনেকের হজমে সমস্যা  দেখা দেয়। এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে এক টেবিল-চামচ মধু মিশিয়ে খেলে হজম শক্তি বৃদ্ধি পাবে।

👉 ঠোঁট ফাটাঃ শীতে অনেকের ঠোঁট ফেটে যায় । রাতে ঘুমের পূর্বে নিয়মিত ঠোঁটে মধুর প্রলেপ লাগালে ঠোঁটের ওপরের শুষ্ক ত্বক দূর করতে সহায়তা করে। এর ফলে ঠোঁট থাকে নরম, তখন ফেটে যাওয়ার সম্ভাবনা আর থাকে না। আবার ঠোঁটের সৌন্দর্য্যও বৃদ্ধি পায়। 

👉 ত্বকের রুক্ষতাঃ অতিরিক্ত শীতে ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়। প্রথমে এক চামচ মধু নিয়ে তা পুরো মুখে লাগান। আধা ঘণ্টা পরে হালকা গরম পানিতে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এটি করলে মুখের ত্বক উজ্জ্বল হবে। অথবা  অ্যালোভেরা জেলের সঙ্গে মধু মিশিয়ে নিয়মিত ব্যবহারে ত্বক সুন্দর হয়ে ওঠে।

👉 চুলের যত্নেঃ কাঁচা মধুতে থাকা এনজাইম এবং চুলের জন্য পুষ্টিকর। চুলে নিয়মিত ব্যবহারের ফলে নিস্তেজ চুলকে চকচকে করে তুলে। 

শীতে কারও কারও ক্ষেত্রে মাথার স্ক্যাল্প শুষ্ক হয় আবার কারও কারও ক্ষেত্রে তৈলাক্ত হয়। যাদের স্ক্যাল্প বেশি শুষ্ক তারা যদি নিয়মিত প্যাক ব্যবহার করেন তাহলে চুলের আর্দ্রতা বজায় থাকবে। দুই টেবিল চামচ মধুর সঙ্গে নিমপাতার পেস্ট, মৌরি ১ টেবিল চামচ, মসুরের ডালের গুঁড়া নিয়ে মিশিয়ে ভালো করে পেস্ট তৈরি করে পুরো মাথায় স্ক্যাল্পে লাগাতে হবে। এতে করে খুশকি দূর হবে এবং আর্দ্রতা বজায় থাকবে।

সতর্কতাঃ

যে মধু পান করবেন সেটি অবশ্যই খাঁটি মধু হতে হবে। ভেজাল মিশ্রিত মধুতে উপকারের পরিবর্তে ক্ষতির সম্ভাবনাই বেশি থাকে। বাজারে নানা রঙের মোড়কে মধু পাওয়া যায়। খাঁটি মধুর নাম দিয়ে ভেজাল, রাসায়নিকযুক্ত উপাদান বিক্রি করাও এখন খুব স্বাভাবিক একটা ঘটনা।

🔶 তথ্যসূত্রঃ

১। আখতারুন নাহার আলো, সাবেক প্রধান পুষ্টিবিদ, পুষ্টি বিভাগ, বারডেম হাসপাতাল, ঢাকা।

২। উইকিপিডিয়া এবং রিডার্স ডাইজেস্ট প্রকাশিত বই হোম রেমেডি

৩। বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকা


খাঁটি মধু পেতে নিচের বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের কাছে পাবেন সুন্দরবনের খাঁটি মধুর ১০০% নিশ্চয়তা।


Messenger

Comments (0)


There are no comments yet.
Your message is required.
Markdown cheatsheet.

Or Login / Register to add a comment
-